ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত স্বতন্ত্র লড়াইয়ে ফরিদপুর-১ এ আবুল বাশার খানের ঘোষণা শিক্ষক মিজান ও সাংবাদিক নাঈমকে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শিশুকে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কোম্পানীগঞ্জে দলিল লেখক সমিতির কমিটি গঠন সম্পন্ন, সভাপতি শাহিন, সম্পাদক জাহান কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের হাতে আটককৃত বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ পর্তুগাল শাখার কমিটি গঠন মামলাতেও থামছে না আশ্রব আলীর অবৈধ বালু উত্তোলনের তান্ডব কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র কণ্ঠ কোছাকের নতুন নেতৃত্বে এহসান ও রাসেল

আজ হাসামদিয়া গণহত্যা দিবস; নেই কোনো কর্মসূচি

টুটুল বসু, বোয়ালমারী, ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক কালের খেয়া অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
আজ হাসামদিয়া গণহত্যা দিবস।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীর হাসামদিয়ায় ১৯৭১ সালের আজকের দিনে হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন
৩৩ জন নিরীহ গ্রামবাসী। প্রতি বছর শহীদদের স্মরণে দিবসটি উদযাপন করা হলেও এ বছর শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেলায় শহীদদের স্মরণে কোন কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

প্রতি বছর এই শহীদদের স্মরণে
উপজেলার হাসামদিয়ায় অবস্থিত শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজ চত্বরে ‘শহীদদের নাম স্মৃতি স্তম্ভে‘
শ্রদ্ধা নিবেদন করতো কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শহীদদের স্মরণে নির্মিত নাম স্মৃতি স্তম্ভটি রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। যে কারণে এ বছর দৃশ্যমান কোন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়নি বলে জানালেন – কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা, ফরিদপুর -১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ফরিদপুর জেলার মুজিব বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর বলেন- “আমি ও আমার বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধানে ১৯৭১ সালের ১৬ মে তিন শতাধিক পাকসেনার একটি বহর যশোর থেকে রেলযোগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়া গ্রামে আসে। আমাদের না পেয়ে পাক বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় হাসামদিয়া, রামনগর, রাজাপুর, ময়েনদিয়া, রাজাবেনি, মিঠাপুর পোয়াইলসহ কয়েকটি গ্রামের ৩৩ জন নিরস্ত্র, নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর। স্থানীয় ময়েনদিয়া বাজারের চালানো হয় লুটপাট। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ৫০ এর অধিক দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এদিন শহীদ বাসুদেব রাজবংশী, শহীদ নবদ্বীপ রাজবংশী, শহীদ গোপাল রাজবংশী, শহীদ সুমান্ত রাজবংশীসহ ৩৩ জন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয় ।
আমি আজ গভীর শ্রদ্ধাভারে তাদের স্মরণ করছি।
আগামী বছর পূণরায় শহীদদের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে তাদের স্মরণ করবো আশা রাখি। ”

বোয়ালমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন – এ বিষয়টি আমি অবগত নই। আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের অমর শহীদদের শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি। স্মৃতিস্তম্ভটি পুননির্মাণ ও ভবিষ্যতে যাতে দিবসটি স্মরণ করা হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এদিকে এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা হাসামদিয়া গণহত্যায় নিহত শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ তাদের রাষ্ট্রীয় ভাবে শহীদ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

টুটুল বসু,
বোয়ালমারী, ফরিদপুর

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আজ হাসামদিয়া গণহত্যা দিবস; নেই কোনো কর্মসূচি

আপডেট সময় : ১২:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
আজ হাসামদিয়া গণহত্যা দিবস।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীর হাসামদিয়ায় ১৯৭১ সালের আজকের দিনে হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন
৩৩ জন নিরীহ গ্রামবাসী। প্রতি বছর শহীদদের স্মরণে দিবসটি উদযাপন করা হলেও এ বছর শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেলায় শহীদদের স্মরণে কোন কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

প্রতি বছর এই শহীদদের স্মরণে
উপজেলার হাসামদিয়ায় অবস্থিত শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজ চত্বরে ‘শহীদদের নাম স্মৃতি স্তম্ভে‘
শ্রদ্ধা নিবেদন করতো কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শহীদদের স্মরণে নির্মিত নাম স্মৃতি স্তম্ভটি রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। যে কারণে এ বছর দৃশ্যমান কোন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়নি বলে জানালেন – কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা, ফরিদপুর -১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ফরিদপুর জেলার মুজিব বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর বলেন- “আমি ও আমার বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধানে ১৯৭১ সালের ১৬ মে তিন শতাধিক পাকসেনার একটি বহর যশোর থেকে রেলযোগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়া গ্রামে আসে। আমাদের না পেয়ে পাক বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় হাসামদিয়া, রামনগর, রাজাপুর, ময়েনদিয়া, রাজাবেনি, মিঠাপুর পোয়াইলসহ কয়েকটি গ্রামের ৩৩ জন নিরস্ত্র, নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর। স্থানীয় ময়েনদিয়া বাজারের চালানো হয় লুটপাট। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ৫০ এর অধিক দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এদিন শহীদ বাসুদেব রাজবংশী, শহীদ নবদ্বীপ রাজবংশী, শহীদ গোপাল রাজবংশী, শহীদ সুমান্ত রাজবংশীসহ ৩৩ জন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয় ।
আমি আজ গভীর শ্রদ্ধাভারে তাদের স্মরণ করছি।
আগামী বছর পূণরায় শহীদদের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে তাদের স্মরণ করবো আশা রাখি। ”

বোয়ালমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন – এ বিষয়টি আমি অবগত নই। আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের অমর শহীদদের শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি। স্মৃতিস্তম্ভটি পুননির্মাণ ও ভবিষ্যতে যাতে দিবসটি স্মরণ করা হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এদিকে এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা হাসামদিয়া গণহত্যায় নিহত শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ তাদের রাষ্ট্রীয় ভাবে শহীদ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

টুটুল বসু,
বোয়ালমারী, ফরিদপুর