ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাবেক এমপি প্রার্থীর গুলিতে ছোট ভাই নিহত চান্দরা মাদরাসায় আজীবন সদস্য সম্মেলন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত আলফাডাঙ্গায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে তরুণ মুখ নাহিদুল ইসলাম বোয়ালমারীতে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর হত্যার অভিযোগ এনসিপি জোটবদ্ধ হলেও ফরিদপুর-১ আসনে অপু ঠাকুর বিদ্রোহী প্রার্থী ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন ১১ প্রার্থী ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের মনোনয়নপত্র জমা ফরিদপুর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি শারাফাত হোসাইনের মনোনয়নপত্র জমা বোয়ালমারীতে ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার প্রেসক্লাব আলফাডাঙ্গা চার সদস্য আহবায়ক কমিটি ঘোষণা

বোয়ালমারীতে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত

সাবেক এমপি প্রার্থীর গুলিতে ছোট ভাই নিহত

টুটুল বসু, বোয়ালমারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক কালের খেয়া অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টুটুল বসু,

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক সম্পত্তির জায়গার গাছ বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের চতুল মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম হুমায়ুন কবির মিন্টু (৫২)। অভিযুক্ত বড় ভাই ডা. গোলাম কবির (৭২) কে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

 

ফাবিহা নামে নিহতের বারো বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং তার নিজ নামে বোয়ালমারীতে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে পৈতৃক সম্পত্তিতে থাকা জায়গার গাছ বেচাকে কেন্দ্র করে বাড়ি থেকে একটু দূরে রেললাইনের পাশে দুই ভাইয়ের মধ্যে বচসা হয়। এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির বাড়ি থেকে শর্ট গান নিয়ে তার ছোট ভাই মিন্টুর মাথায় গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিন্টুর মৃত্যু হয়।ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে অভিযুক্ত দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে উত্তেজিত জনতা গোলাম কবীরকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়ি ও বাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। অভিযুক্তকে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকেই হত্যার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, ওদের জমিতে থাকা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে গোলাম কবির সাথে থাকা শর্ট গান দিয়ে মিন্টুকে গুলি করেছে। আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি বলে পরিচয় দিতেন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক সদস্য। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই উপজেলার পৌরসদরের চৌরাস্তা সংলগ্ন খান প্লাজা ভবনে ডা. গোলাম কবির ও বিল্ডিংয়ের মালিক সালমা বেগমের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির শর্টগান প্রদর্শন করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বোয়ালমারীতে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত

সাবেক এমপি প্রার্থীর গুলিতে ছোট ভাই নিহত

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

টুটুল বসু,

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক সম্পত্তির জায়গার গাছ বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের চতুল মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম হুমায়ুন কবির মিন্টু (৫২)। অভিযুক্ত বড় ভাই ডা. গোলাম কবির (৭২) কে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

 

ফাবিহা নামে নিহতের বারো বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং তার নিজ নামে বোয়ালমারীতে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে পৈতৃক সম্পত্তিতে থাকা জায়গার গাছ বেচাকে কেন্দ্র করে বাড়ি থেকে একটু দূরে রেললাইনের পাশে দুই ভাইয়ের মধ্যে বচসা হয়। এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির বাড়ি থেকে শর্ট গান নিয়ে তার ছোট ভাই মিন্টুর মাথায় গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিন্টুর মৃত্যু হয়।ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে অভিযুক্ত দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে উত্তেজিত জনতা গোলাম কবীরকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়ি ও বাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। অভিযুক্তকে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকেই হত্যার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, ওদের জমিতে থাকা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে গোলাম কবির সাথে থাকা শর্ট গান দিয়ে মিন্টুকে গুলি করেছে। আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি বলে পরিচয় দিতেন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক সদস্য। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই উপজেলার পৌরসদরের চৌরাস্তা সংলগ্ন খান প্লাজা ভবনে ডা. গোলাম কবির ও বিল্ডিংয়ের মালিক সালমা বেগমের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির শর্টগান প্রদর্শন করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।