ইয়ামিন হাসান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা:
টাঙ্গাইলের মধুপুর মির্জাবাড়ী ইউনিয়নে বানিয়াচড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর বাদীর বাড়ী-ঘরে লুটপাট ও ভাংচুর।
স্থানীয়রা জানায়, গেল বছর ২৭ অক্টোবর হত্যা মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার ২৫ অক্টোবর শুক্রবার সকালে নিহত মেহেদী পরিবারের সদস্যদের পুনরায় ভয়ভীতি দেখানোসহ বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের বাবা আজিজুল হকের স্ত্রী মোসা. মাসুদা (৩৬) বাদী হয়ে ঘটনার সময় প্রথমে থানায় তারপরে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেন। মামলার বিবাদী, বাদী মাসুদার দেবর মছলিম (৩১) ও দেববের স্ত্রী তাসলিমা (২৮) এই ২ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বানিয়াচড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে নিহত মেহেদী স্থানীয় একটি স্কুলে দশম শ্রেণির অনিয়মিত শির্ক্ষার্থী ছিল। তার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় মাঝেমধ্যে ভবন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত বছর ২৫ অক্টোবর বিবাদীর ছেলে লিখনের (১০) সাথে নিহত মেহেদীর ছোট ভাই রবিউলের (১২) কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। বাড়ীর সম্মুখে শিশুদের এই হাতিহাতির ঘটনার বিষয় তার চাচা মছলিমকে বলতে গেলে, চাচা ভাতিজার মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ঝগড়া চলাবস্থায় চাচা মছলিম বাঁশের লাঠি নিয়ে এসে ভাতিজা মেহেদীর পিছন থেকে মাথায় আঘাত করে, ততক্ষনাত মেহেদী মাঠিতে লুটে পড়ে। পরে মছলিম ও স্ত্রী তাসলিমা দুজনে মিলে মেহেদীকে মারধর করেন। পরে মেহেদী বমি করতে থাকেন অবস্থা বেগতিক দেখে প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় মেহেদীকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিতসক অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হসপিটালে রেফার্ড করেন, সেখানে পৌছানোর পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে এ হত্যার ঘটনা নিয়ে মেহেদীর মা মোসা. মাসুদা বাদী হয়ে থানায় ও আদালতে মামলা দায়ের করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীর বসতঘরে লুটপাট, ভাংচুর, টিনের ঘরের বেড়া দারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ঝাঝড়া করে ফেলে। মামলার আসামীদের এমন কর্মকান্ড দেখে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিহত মেহেদীর পরিবার, এভাবেই সাংবাদিকদের জানালেন স্থানীয়রা।
নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন, আমি ভাই মছলিমের কি ক্ষতি করিছিলাম? যার কারণে আমার বড় ছেলেকে মেরে ফেলতে হবে? আমি খুনি মছলিমের বিচার চাই।
প্রতিবেশী কৃষক আব্দুল বারেক জানালেন, মেহেদীর মত একটা শান্ত পোলা (ছেলে) আমাদের এলাকায় নেই। সভ্য একটা পোলা আছাল (ছিলো) তারে এই অবস্থা করে মারছে, আমরা এই অসহায় গরীব মানুষের জন্য বিচার চাই।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এমরানুল কবির বলেন, হত্যা মামলাটি তদন্ত শেষ হয়েছে। বর্তমানে মামলা কোর্টে বিচারাধীন আছে।
সম্পাদক : শরিফুল ইসলাম, প্রকাশক : শামীম রেজা, অফিস: রোড নং: ০৪ ব্লক: ডি, মিরপুর-১ ঢাকা- ১২১৬।
মোবাইল: ০১৭১০-১০০১৪৩, ০১৭১০-৯৫৯৮৩৯ G-mail: kalerkhea24@gmail.com
www.kalerkhea.com